পাকিস্তানে ৪৭ জন আরোহী নিয়ে বিমান বিধ্ধস্ত..কেউ বেঁচে নেই

পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ৪৭ জন আরোহী নিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিমান পরিবহন সংস্থা পিআইএর একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় বিমানের আরোহীদের কেউ বেঁচে নেই বলে পিআইএ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ইসলামাবাদের অ্যাবোটাবাদের ২০ কিলোমিটার দূরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পর্যটন নগরী চিত্রল থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করে।

মধ্যরাত পর্যন্ত বিমানের আরোহীদের ৪০ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানের একটি পাহাড়ী এলাকায় পিআইএর বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: ডন

পাকিস্তানের একটি পাহাড়ী এলাকায় পিআইএর বিধ্বস্ত উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: ডন

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের (পিআইএ) চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজম সাইগল বলেন, “কেউ জীবিত নেই, কেউ বাঁচেনি।”বিমানে ৪২ জন যাত্রী এবং পাঁচজন ক্রু ছিলেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে পিআইএ।

আরোহীদের মধ্যে নব্বইয়ের দশকে খ্যাতনামা পাকিস্তানি পপ তারকা জুনাইদ জামশেদ ও তার স্ত্রী ছিলেন বলে এয়ারলাইনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। জুনাইদ পরে গান ছেড়ে ধর্ম প্রচারে মনোনিবেশ করেন।

বিমান যাত্রীদের মধ্যে দুই জন অস্ট্রেলীয় এবং একজন চীনা নাগরিক ছিলেন।

পিআইএ বলছে, বিমানটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কয়েক মিনিট আগে ফ্লাইটের ক্যাপ্টেন বিমানের একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ার কথা জানিয়েছিলেন।

খাইবার-পাখতুনখাওয়া প্রদেশের জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা টেলিফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, উড়োজাহাজটি রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে ১২৫ কিলোমিটার দূরে হাভেলিয়ান শহরের কাছে বিধ্বস্ত হয়।

হাভেলিয়ানের সরকারি কর্মকর্তা তাজ মুহাম্মদ খান রয়টার্সকে বলেন, “সবার শরীর এমনভাবে পুড়ে গেছে যে সেগুলো চেনা যাচ্ছে না। উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ চারিদিকে ছড়িয়ে আছে।

জনপ্রিয় পপ তারকা থেকে ধর্ম প্রচারক হওয়া জুনাইদ জামশেদের করাচির বাসায় জড়ো হয়েছেন স্বজনরা। ছবি-রয়টার্স

জনপ্রিয় পপ তারকা থেকে ধর্ম প্রচারক হওয়া জুনাইদ জামশেদের করাচির বাসায় জড়ো হয়েছেন স্বজনরা। ছবি-রয়টার্স

“প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাকে বলেছে, উড়োজাহাজটি মাটিতে পড়ার আগেই সেটিতে আগুন জ্বলছিল।”দুই ঘণ্টা পরও ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলছিল বলে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী জানান।

এর আগে ২০১০ সালে ভারী বৃষ্টির মধ্যে ইসলামাবাদের কাছে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫২ আরোহীর সবাই মারা যান। এর দুই বছর পর দেশটির একটি বেসরকারি কোম্পানির বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১২৭ আরোহীর মৃত্যু হয়।

পিআইএ’র বিমানেরও বড় ধরনের দুর্ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৭৯ ও ১৯৯২ সালে সৌদি আরবের জেদ্দা এবং নেপালের কাঠমাণ্ডুতে তাদের দুটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১৫৬ ও ১৬৭ জনের মৃত্যু হয়।

এরপর ২০০৬ সালে পাকিস্তানের মুলতান শহরের কাছে পিআইএর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ৪৫ আরোহীর মৃত্যু হয়। পরের বছর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তাদের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

(5)

Share

Leave a Reply